, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
একবারই দেখেছি তোমাকে ~ চায়না খাতুন। অপার্থিব দূরত্ব ~ মেহেরুন নেছা । আমার কেন্দুয়া ~ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন । নকলের জাতি কি আলোকিত মানুষ গড়তে পারে? নতুন রূপ, নতুন অঙ্গীকার: সাম্যবাদী নিউজ ডেস্ক। জামালপুরে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর চাপ ** জাকিরুল ইসলাম বাবু ** জামালপুর প্রতিনিধি ** জামালপুরে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে পুরো জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় কাহিল হয়ে পড়েছে। শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে সরিষাবাড়িতে শতবর্ষী বৃদ্ধা মরিয়ম বেওয়ার মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, “শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। শীতের তীব্রতা আরো বাড়লে রোগীর সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।” এ ছাড়া হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি বেশিরভাগ শিশুই নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালের শয্যা সংকটের কারণে এক বিছানায় তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। শীতের প্রকোপে সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। বোরো ধানের বীজতলা ও শীতকালীন সবজি ক্ষেত রক্ষায় কৃষকরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তবে কুয়াশার কারণে রোদ না পাওয়ায় কিছু সবজি ক্ষেতে রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শীত মোকাবিলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, শীত আরও বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষদের দুর্ভোগ আরও তীব্র হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। জামালপুর সদর উপজেলার ইউএনও নাজনীন আখতার জানান, কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে মোট ৬২৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। ঠান্ডা-জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি থাকা শিশুর সংখ্যা ১২৭ জন। ২৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৩ জন এবং ৩২ শয্যার শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ৪৪ জন শিশু রয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, শিশু ওয়ার্ডের নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিনগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে প্রতি বিছানায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশেই তাদের অভিভাবকরা দাঁড়িয়ে বা বসে অবস্থান করছেন। মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতেও জায়গার অভাবে অনেক রোগী বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু খাদিজার মা হ্যাপি বেগম বলেন, “ছয় দিন আগে আমার মেয়ের ঠান্ডা-জ্বর শুরু হয়। এলাকায় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানোর পরও ভালো না হয়ে বমি শুরু হয়। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো আছে। শীত পড়ার পর থেকেই এই সমস্যা শুরু হয়েছে।” জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার মুখশিমলা এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “সর্দি-কাশিতে আমার পাঁচ মাস বয়সী নাতনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রথমে ইসলামপুর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম, পরে জামালপুর হাসপাতালে ভর্তি করি। গত দুই দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এক বিছানায় দুই-তিনজন করে বাচ্চা রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাচ্চার সঙ্গে থাকার মতো জায়গা না থাকায় খুব কষ্টে আছি।” জামালপুর জেলা শহরের লাঙ্গলজোড়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন, হাসপাতালে আনার পর কোনো সিট পাইনি। নিচে বিছানা পেতে ছেলের চিকিৎসা নিচ্ছি। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাথা ফুলে গিয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরে শীত বেড়েছে, তখন থেকেই রোগ শুরু হয়েছে। হাসপাতালের নার্স সাদিয়া আক্তার বলেন, প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ওয়ার্ডে বেশিরভাগই ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত শিশু। এত রোগী একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, প্রতিবছর শীতকালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ বছরও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুদের জন্য বর্তমানে দুইজন মেডিকেল অফিসার ও একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট চিকিৎসক রয়েছেন। আমরা চিকিৎসক ও জায়গা, দুই সংকটেই ভুগছি। ফলে সেবা দিতে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এদিকে জামালপুরে সপ্তাহকাল ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। মঙ্গলবার রাতে জেলায় রাতের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ করা হলেও আরও অনেক জায়গায় শীতার্তদের মাঝে কম্বলের চাহিদা রয়েছে। জামালপুরের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, জেলায় সাড়ে সাত হাজার কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব কম্বল উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জয়পুরহাটে বিএনপির পরিকল্পনা মোতাবেক ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক কর্মশালা ** সুকমল চন্দ্র বর্মন (পিমল) জেলা প্রতিনিধি ** জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ( জয়পুরহাট – পাঁচবিবি) এক আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে স্বনির্ভর জাতি হিসেবে গঠন করতে প্রত্যেক পরিবারের নারীদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের কৃষি, স্বাস্থ্য ও ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা কার্ড প্রদান করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর শহরের নতুনহাট কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির পরিকল্পনা মোতাবেক ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতা বলেন, বিতরণ করা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারবে। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বিনামূল্যে এবং ন্যায্য মূল্যে সার ও বীজসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে পারবেন। স্বাস্থ্যকার্ডের মাধ্যমে স্থানীয় হাসপাতালে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাবে। আর বড় ধরনের অসুখ হলে বড় চিকিৎসকদের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রধান করা হবে। আর শিক্ষা কার্ডের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষায় সহায়তা প্রদান করা হবে। এসময় অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হেনা কবীর, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল প্রধান সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় লামায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল ** মোঃশফিকুল ইসলাম তুহিন ** বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি বাংলাদেশের সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বান্দরবানের লামা উপজেলায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) লামা উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন তুষার, আবিদুর রহমান, বাবু রিটল বিশ্বাস, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আইয়ুব খানসহ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। দোয়া মাহফিলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। পাঁচবিবিতে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন ও গণভোটে উদ্ধৃতকরণ প্রচারণা সভা ** সুকমল চন্দ্র বর্মন (পিমল) জেলা প্রতিনিধি ** জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এ আচরনবিধি প্রতিপালন ও গণভোটে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণভোট প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় পাঁচবিবি তিনমাথায় (গোহাটি) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রচারণা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ । সভায় বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের ভোটের গাড়ির ডিসপ্লেতে গণভোটের বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ ও জুলাই বিপ্লবের উপর প্রমান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয় । এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভুমি বেলায়েত হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজ মোঃ রায়হান সহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী, পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারী, বনিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিভিদন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রী, এনজিও প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ । সমগ্র অনুষ্টানটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং পৌর প্রশাসক সেলিম আহমেমের নির্দেশনায় প্রচারিত হয় । গণভোট বিষয়ে সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণ ও তা প্রধান উপদেষ্টা দর নিকট প্রেরণের জন বক্স স্থাপন করা হয়। গণভোট প্রচারণা কার্যক্রম ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা ** মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ** ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোট প্রচারণা কার্যক্রম এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার, ০৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিপিডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু শাহীন মো: আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: সাইফুর রহমান। এছাড়াও পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ এবং জেলার সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের দপ্তরপ্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি: তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে অন্যান্য সংসদ নির্বাচনের সংসদ সদস্য (এমপি) কে ভোট প্রদানের পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গণভোটের হ্যাঁ অথবা না ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে গণভোটের প্রচারণা, সাধারণ জনগণকে অবহিতকরণ এবং ব্যাপক প্রচারের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর একযোগে কাজ করছে। সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জনসংযোগ, উঠান বৈঠক, মহিলা সমাবেশ, কমিউনিটি সভা, মতবিনিময় সভা ও সেমিনার এবং অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, গণভোটের প্রচারণা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় আলোচকরা সকলের সার্বিক সহযোগিতায় একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আগের আমলের সেই মাফিয়াদেরকে একটি রাজনৈতিক দল প্রশ্রয় দিচ্ছে : নাহিদ ইসলাম। 

  • প্রকাশের সময় : ১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • ৩১৬ পড়া হয়েছে

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

দেশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির ( এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগের আমলে আমরা দেখেছি গুটি কয়েক ব্যবসায়ী মাফিয়ায় পরিনত হয়েছিল। সেই মাফিয়াদেরকে এখন একটি রাজনৈতিক দল প্রশ্রয় দিচ্ছে। অন্য দিকে আমাদের ক্ষুদ্র মাঝারি ও খেটে খাওয়া ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের তাড়নায় তারাও বেহাল হয়ে রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীদের রক্ষা করব,সৎ দেশ প্রেমিক ব্যবসায়ীদের আমরা রক্ষা করবো। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিকে চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসের কবল থেকে আমরা রক্ষা করবো। শুক্রবার ১১ জুলাই রাতে খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে এনসিপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। গনঅভ্যুত্থান অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম জুলাই গনঅভ্যুত্থানের কোন শেষ ছিল না। কোন সমাপ্ত ছিল না। জুলাই গনঅভ্যুত্থান ছিল নতুন বাংলাদেশের শুরু। ছাত্র, তরুন ও শ্রমিকের আন্দোলনের শুরু। সেই আন্দোলন আমাদেরকে চলমান রাখতে হবে। আমরা বলে দিতে চাই, নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায়, গনতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নাগরিক পার্টি গনঅভ্যুত্থানের সব ছাত্র তরুন এখনোও মাঠে রয়েছে। আপনারা যতই চেষ্টা করুন আমাদেরকে মাঠ থেকে সরাতে পারবেন না। আমরা মাঠে থাকবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, শহীদ পরিবাররা নতুন বাংলাদেশে কোন চাঁদাবাজি সংস্কৃতি দেখতে চায়নি। শহীদরা সন্ত্রাসীদের জন্য, চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যের জন্য জীবন দেন নি।আমরা বলেছিলাম নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা দ্ধিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। আর তারা ভবেছিল লুটপাটের স্বাধীনতা পেয়েছে।যদি ভেবে থাকেন লুটপাটের স্বাধীনতা পেয়েছেন, খুবই ভুল ভাবছেন। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে জনগন যেভাবে রাজপথে নেমেছিল। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একইভাবে রাজপথে নামতে হবে। আপনারা প্রস্তুত হন। আমরা খুলনাবাসীকে বলছি আপনারা প্রস্তুত হন। আমরা ৩ আগষ্ট ঢাকায় আসছি, এইসব কিছুর জবাব দেওয়া হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জুলাই গনঅভ্যুত্থানে এক বছর পার করেছি। কিন্তু আজকে ঢাকায় এবং খুলনায় বিভৎস্য ঘটনা ঘটেছে। চোখে দেখার মতো না এই ঘটনা। রাজনৈতিক সহিংসতা আমরা দেখেছিলাম এক গনঅভ্যুত্থানে পর আমাদের দেখতে হচ্ছে। এটা দুঃখের, এটা আমাদের কষ্টের। তিনি বলেন, গনঅভ্যুত্থানের পর আমরা বলেছিলাম, যেই ফ্যাসিবাদি ব্যবস্থা মাফিয়া তৈরি করে, যেই ব্যবস্থা দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেয়, যেই ব্যবস্থা সন্ত্রাসীদের তৈরি করে, যেই ব্যবস্থা জনগনের বিরুদ্ধে দাড়ায় সেই ব্যবস্থা পুলিশ বাহিনীকে খুনি বাহিনীতে রুপান্তরিত করে। সেই ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে হবে। সেই ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে নতুন গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা গঠন করতে হবে কিন্তু নানাভাবে ৫ আগষ্ট থেকে ষড়যন্ত্র হয়েছে এই ছাত্রদের বিরুদ্ধে। আমরা দেখেছিলাম ৫ আগষ্ট কারা ক্যান্টমেন্টে গিয়েছিল। অভুত্থানের নেতৃবৃন্দের বাদ দিয়ে সরকার গঠনের পরিকল্পনা করেছিল। এই ছাত্র নেতৃবৃন্দ অনেক চেষ্টা করেছে এই সরকারকে, এই সরকারের রাজনীতিকে গনঅভ্যুত্থানের দিকে আনতে। কিন্তু নানা পক্ষ যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সাথে থাকলেও নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের সাথে নেই। তারা পুরোনো বন্দোবস্তের পক্ষে আছে। পুরোনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখার জন্য তারা সবকিছু করে যাচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে আমরা ঢাকায় দেখলাম, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা কথা বলে যাচ্ছি। জনগনকে আজকে বলতে হচ্ছে, অভুত্থানকারী নাগরিকদের আজকে বলতে হচ্ছে। আপনাদের আবার প্রস্তুতি নিতে হবে, আবারও মাঠে নামতে হবে। শহীদরা এই দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছে। খুলনাবাসীর উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, খুলনা একটি ঐতিহ্যের নগরী। এই খুলনা আজকে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যুগ যুগ ধরে এই খুলনা বঙ্গ অঞ্চলে শিল্প নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। কিন্তু সেই শিল্প গুলো একের পর এক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই সেই প্রতিষ্ঠান গুলোকে আবারও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আবারও পাটকল চালু করতে হবে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যা্য্য মজুরি দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা পৃথিবীর অনন্য নিদর্শন সুন্দরবন আমাদের এই খুলনা অঞ্চলে অবস্থিত। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে করে এই সুন্দরবনকে ধংবসের পায়তারা করা হয়েছিল। ভারতের সার্থ রক্ষা করার জন্য রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিভিন্ন দুর্গোগে আমরা দেখেছি এই খুলনা অঞ্চল, ঐই সুন্দরবন কিভাবে তার বেহাল দশায় পতিত হয়েছে। অথচ এই সুন্দরবন শতশত বছর ধরে এই ব- দ্ধীপের মানুষকে ঢাল হিসেবে পাহারা দিয়েছে। আমাদেরকে রক্ষা করে গিয়েছে। এই সুন্দরবনকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এই সুন্দরবন আমাদের। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েট প্রসঙ্গে, নাহিদ ইসলাম বলেন, খুলনা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুয়েট দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভিসির বিরুদ্ধে নেমেছে, শিক্ষকরা- ভিসিরা নিজেদের মধ্যে অন্তকোন্দলের কারনে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছেন। আমরা দাবি জানাচ্ছি, খুলনা এলাকার মানুষ, আপনাদের এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি কারো অন্তকোন্দলের কারনে বন্ধ থাকে, তাহলে আপনারা এটা মেনে নেবেন না। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিনাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী প্রমুখ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা: তাসনিম জারা সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এরপর নির্ধারিত কর্মসুচি অংশ হিসেবে এনসিপির নেতাকর্মীরা শিল্প নগরীর খালিশপুর পিপলস মোড়ে রাত ১০ টায় পথসভা করেন। পথসভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এসময় তিনি বলেন, খালিশপুরে বন্ধ পাটকল গুলোর শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করুন। সরকারকে পাটকল গুলো লিজপ্রথা বাতিল সহ বিজেএমসির লুটপাট, ও দুর্নীতি বন্ধ করে পাটকল গুলো পুনরায় রাস্ট্রিয় ব্যাবস্থাপনায় চালুর আহবান জানান। তিনি আরো বলেন এনসিপি রাস্ট্রিয় ক্ষমতায় আসলে শ্রমিদের দাবি শতভাগ পুরন করা হবে। এসময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন মিলের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রিয়

জামালপুরে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর চাপ ** জাকিরুল ইসলাম বাবু ** জামালপুর প্রতিনিধি ** জামালপুরে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে পুরো জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় কাহিল হয়ে পড়েছে। শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে সরিষাবাড়িতে শতবর্ষী বৃদ্ধা মরিয়ম বেওয়ার মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, “শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। শীতের তীব্রতা আরো বাড়লে রোগীর সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।” এ ছাড়া হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি বেশিরভাগ শিশুই নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালের শয্যা সংকটের কারণে এক বিছানায় তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। শীতের প্রকোপে সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। বোরো ধানের বীজতলা ও শীতকালীন সবজি ক্ষেত রক্ষায় কৃষকরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তবে কুয়াশার কারণে রোদ না পাওয়ায় কিছু সবজি ক্ষেতে রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শীত মোকাবিলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, শীত আরও বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষদের দুর্ভোগ আরও তীব্র হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। জামালপুর সদর উপজেলার ইউএনও নাজনীন আখতার জানান, কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে মোট ৬২৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। ঠান্ডা-জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি থাকা শিশুর সংখ্যা ১২৭ জন। ২৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৩ জন এবং ৩২ শয্যার শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ৪৪ জন শিশু রয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, শিশু ওয়ার্ডের নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিনগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে প্রতি বিছানায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশেই তাদের অভিভাবকরা দাঁড়িয়ে বা বসে অবস্থান করছেন। মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতেও জায়গার অভাবে অনেক রোগী বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু খাদিজার মা হ্যাপি বেগম বলেন, “ছয় দিন আগে আমার মেয়ের ঠান্ডা-জ্বর শুরু হয়। এলাকায় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানোর পরও ভালো না হয়ে বমি শুরু হয়। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো আছে। শীত পড়ার পর থেকেই এই সমস্যা শুরু হয়েছে।” জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার মুখশিমলা এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “সর্দি-কাশিতে আমার পাঁচ মাস বয়সী নাতনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রথমে ইসলামপুর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম, পরে জামালপুর হাসপাতালে ভর্তি করি। গত দুই দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এক বিছানায় দুই-তিনজন করে বাচ্চা রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাচ্চার সঙ্গে থাকার মতো জায়গা না থাকায় খুব কষ্টে আছি।” জামালপুর জেলা শহরের লাঙ্গলজোড়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন, হাসপাতালে আনার পর কোনো সিট পাইনি। নিচে বিছানা পেতে ছেলের চিকিৎসা নিচ্ছি। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাথা ফুলে গিয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরে শীত বেড়েছে, তখন থেকেই রোগ শুরু হয়েছে। হাসপাতালের নার্স সাদিয়া আক্তার বলেন, প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ওয়ার্ডে বেশিরভাগই ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত শিশু। এত রোগী একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, প্রতিবছর শীতকালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ বছরও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুদের জন্য বর্তমানে দুইজন মেডিকেল অফিসার ও একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট চিকিৎসক রয়েছেন। আমরা চিকিৎসক ও জায়গা, দুই সংকটেই ভুগছি। ফলে সেবা দিতে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এদিকে জামালপুরে সপ্তাহকাল ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। মঙ্গলবার রাতে জেলায় রাতের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ করা হলেও আরও অনেক জায়গায় শীতার্তদের মাঝে কম্বলের চাহিদা রয়েছে। জামালপুরের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, জেলায় সাড়ে সাত হাজার কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব কম্বল উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জয়পুরহাটে বিএনপির পরিকল্পনা মোতাবেক ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক কর্মশালা ** সুকমল চন্দ্র বর্মন (পিমল) জেলা প্রতিনিধি ** জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ( জয়পুরহাট – পাঁচবিবি) এক আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে স্বনির্ভর জাতি হিসেবে গঠন করতে প্রত্যেক পরিবারের নারীদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের কৃষি, স্বাস্থ্য ও ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা কার্ড প্রদান করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর শহরের নতুনহাট কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির পরিকল্পনা মোতাবেক ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতা বলেন, বিতরণ করা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারবে। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বিনামূল্যে এবং ন্যায্য মূল্যে সার ও বীজসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে পারবেন। স্বাস্থ্যকার্ডের মাধ্যমে স্থানীয় হাসপাতালে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাবে। আর বড় ধরনের অসুখ হলে বড় চিকিৎসকদের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রধান করা হবে। আর শিক্ষা কার্ডের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষায় সহায়তা প্রদান করা হবে। এসময় অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হেনা কবীর, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল প্রধান সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত ** মকবুল হোসেন** ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ** ময়মনসিংহে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৭ জানুয়ারি বুধবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজা মোঃ গোলাম মাসুম প্রধানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করতে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। তিনি আরও বলেন, শিশুদের মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিশু কল্যাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সভায় জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিশু কল্যাণ সংক্রান্ত চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

পাঁচবিবিতে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন ও গণভোটে উদ্ধৃতকরণ প্রচারণা সভা ** সুকমল চন্দ্র বর্মন (পিমল) জেলা প্রতিনিধি ** জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এ আচরনবিধি প্রতিপালন ও গণভোটে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণভোট প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় পাঁচবিবি তিনমাথায় (গোহাটি) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রচারণা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ । সভায় বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের ভোটের গাড়ির ডিসপ্লেতে গণভোটের বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ ও জুলাই বিপ্লবের উপর প্রমান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয় । এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভুমি বেলায়েত হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজ মোঃ রায়হান সহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী, পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারী, বনিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিভিদন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রী, এনজিও প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ । সমগ্র অনুষ্টানটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং পৌর প্রশাসক সেলিম আহমেমের নির্দেশনায় প্রচারিত হয় । গণভোট বিষয়ে সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণ ও তা প্রধান উপদেষ্টা দর নিকট প্রেরণের জন বক্স স্থাপন করা হয়।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে বৈষম্য প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের শ্রদ্ধা নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বৈষম্য প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ।  সোমবার দুপুর দুইটায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারা।  বৈষম্য প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন, দোয়া প‌রিচালনা ক‌রেন বৈষম্য প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য মোঃ ইমরান সোসেন।  বৈষম্য প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো: জহিরুল ইসলাম কলিম বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের অভিভাবকহীন করে চলে গেছেন। আমরা ওনার আত্নার মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ ওনাকে জান্নাত নসিব করুক। শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে স্লো পয়জনিং করেছে। আল্লাহর রহমতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে ছিল কিন্তু শেখ হাসিনা তার রান্না করা ভাত খেতে পারেনি এক কাপড়ে তাকে দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে আল্লাহ তায়ালা ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না“।    তিনি আরো বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে কোনো হিংসা বিদ্বেষ ছিল না। কোনোদিন কারো সাথে খারাপ আচরণ করেননি। ঠিক তেমনি তারেক রহমানের মাঝেও কোনো ধরনের হিংসা বিদ্বেষ নেই। তিনি সবার সাথে আলোচনায় বসছেন। সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার কথা ভাবছেন। আশা করি দেশনেত্রীর মত সবাইকে একত্রিত করে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করবেন।” তিনি আরো বলেন, এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী বার ফেব্রুয়ারির  নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে।  এসময় আরো উপ‌স্থিত ছি‌লেন, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা নাদিম চৌধুরী, সহ সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মো: আনোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন,  ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য কালাম ফয়েজি, রাজু আহম্মেদ শাহ, মুহিদুল ইসলাম জাকির, রমিজ উদ্দিন রুমি, এস কে সঞ্জয়, আশরাফুল আলম বাচ্চুসহ ফাউন্ডেশনের অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।

গণভোট প্রচারণা কার্যক্রম ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা ** মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ** ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোট প্রচারণা কার্যক্রম এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার, ০৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিপিডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু শাহীন মো: আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: সাইফুর রহমান। এছাড়াও পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ এবং জেলার সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের দপ্তরপ্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি: তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে অন্যান্য সংসদ নির্বাচনের সংসদ সদস্য (এমপি) কে ভোট প্রদানের পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গণভোটের হ্যাঁ অথবা না ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে গণভোটের প্রচারণা, সাধারণ জনগণকে অবহিতকরণ এবং ব্যাপক প্রচারের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর একযোগে কাজ করছে। সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জনসংযোগ, উঠান বৈঠক, মহিলা সমাবেশ, কমিউনিটি সভা, মতবিনিময় সভা ও সেমিনার এবং অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, গণভোটের প্রচারণা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় আলোচকরা সকলের সার্বিক সহযোগিতায় একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলীকদম ও থানচিতে শীতার্ত পরিবারে বিজিবি’র শীতবস্ত্র বিতরণ # মোঃশফিকুল ইসলাম তুহিন বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি # বান্দরবানের আলীকদম ও থানচি উপজেলার স্থানীয় অসহায়, দুস্থ ও শীতার্ত পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং বাঙালি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আলীকদম ৫৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের বসবাসরত স্থানীয় অসহায়, দুস্থ পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় ও বাঙালি পরিবারসহ ১৭৫টি শীতার্ত পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেন। একই সাথে থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের অন্তর্গত আলীকদম ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সব বিওপি কর্তৃক দুর্গম সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আরো ২২০টি প্রান্তিক শীতার্ত পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। আলিকদম ৫৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী উপস্থিত থেকে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। তিনি বলেন, আলীকদম ব্যাটালিয়ন অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে সীমান্ত সুরক্ষা ছাড়াও চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃ রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অপরাধ দমন করছে। পাশাপাশি “অপারেশন উত্তরণ” এর আওতায় দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মাঝে বিভিন্ন সময়ে মানবিক ও জনকল্যানমূলক কাজের অংশ হিসেবে বিনামূলো চিকিৎসা সেবা প্রদান, আর্থিক অনুদান, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, শীতকালীন কম্বল বিতরণ, অগ্নিকান্ড এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে পাহাড়ী বাঙ্গালী সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণে বিজিবি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় লামায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল ** মোঃশফিকুল ইসলাম তুহিন ** বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি বাংলাদেশের সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বান্দরবানের লামা উপজেলায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) লামা উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন তুষার, আবিদুর রহমান, বাবু রিটল বিশ্বাস, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আইয়ুব খানসহ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। দোয়া মাহফিলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

একবারই দেখেছি তোমাকে ~ চায়না খাতুন।

আগের আমলের সেই মাফিয়াদেরকে একটি রাজনৈতিক দল প্রশ্রয় দিচ্ছে : নাহিদ ইসলাম। 

প্রকাশের সময় : ১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

দেশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির ( এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগের আমলে আমরা দেখেছি গুটি কয়েক ব্যবসায়ী মাফিয়ায় পরিনত হয়েছিল। সেই মাফিয়াদেরকে এখন একটি রাজনৈতিক দল প্রশ্রয় দিচ্ছে। অন্য দিকে আমাদের ক্ষুদ্র মাঝারি ও খেটে খাওয়া ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের তাড়নায় তারাও বেহাল হয়ে রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীদের রক্ষা করব,সৎ দেশ প্রেমিক ব্যবসায়ীদের আমরা রক্ষা করবো। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিকে চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসের কবল থেকে আমরা রক্ষা করবো। শুক্রবার ১১ জুলাই রাতে খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে এনসিপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। গনঅভ্যুত্থান অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম জুলাই গনঅভ্যুত্থানের কোন শেষ ছিল না। কোন সমাপ্ত ছিল না। জুলাই গনঅভ্যুত্থান ছিল নতুন বাংলাদেশের শুরু। ছাত্র, তরুন ও শ্রমিকের আন্দোলনের শুরু। সেই আন্দোলন আমাদেরকে চলমান রাখতে হবে। আমরা বলে দিতে চাই, নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায়, গনতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নাগরিক পার্টি গনঅভ্যুত্থানের সব ছাত্র তরুন এখনোও মাঠে রয়েছে। আপনারা যতই চেষ্টা করুন আমাদেরকে মাঠ থেকে সরাতে পারবেন না। আমরা মাঠে থাকবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, শহীদ পরিবাররা নতুন বাংলাদেশে কোন চাঁদাবাজি সংস্কৃতি দেখতে চায়নি। শহীদরা সন্ত্রাসীদের জন্য, চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যের জন্য জীবন দেন নি।আমরা বলেছিলাম নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা দ্ধিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। আর তারা ভবেছিল লুটপাটের স্বাধীনতা পেয়েছে।যদি ভেবে থাকেন লুটপাটের স্বাধীনতা পেয়েছেন, খুবই ভুল ভাবছেন। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে জনগন যেভাবে রাজপথে নেমেছিল। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একইভাবে রাজপথে নামতে হবে। আপনারা প্রস্তুত হন। আমরা খুলনাবাসীকে বলছি আপনারা প্রস্তুত হন। আমরা ৩ আগষ্ট ঢাকায় আসছি, এইসব কিছুর জবাব দেওয়া হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জুলাই গনঅভ্যুত্থানে এক বছর পার করেছি। কিন্তু আজকে ঢাকায় এবং খুলনায় বিভৎস্য ঘটনা ঘটেছে। চোখে দেখার মতো না এই ঘটনা। রাজনৈতিক সহিংসতা আমরা দেখেছিলাম এক গনঅভ্যুত্থানে পর আমাদের দেখতে হচ্ছে। এটা দুঃখের, এটা আমাদের কষ্টের। তিনি বলেন, গনঅভ্যুত্থানের পর আমরা বলেছিলাম, যেই ফ্যাসিবাদি ব্যবস্থা মাফিয়া তৈরি করে, যেই ব্যবস্থা দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেয়, যেই ব্যবস্থা সন্ত্রাসীদের তৈরি করে, যেই ব্যবস্থা জনগনের বিরুদ্ধে দাড়ায় সেই ব্যবস্থা পুলিশ বাহিনীকে খুনি বাহিনীতে রুপান্তরিত করে। সেই ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে হবে। সেই ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে নতুন গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা গঠন করতে হবে কিন্তু নানাভাবে ৫ আগষ্ট থেকে ষড়যন্ত্র হয়েছে এই ছাত্রদের বিরুদ্ধে। আমরা দেখেছিলাম ৫ আগষ্ট কারা ক্যান্টমেন্টে গিয়েছিল। অভুত্থানের নেতৃবৃন্দের বাদ দিয়ে সরকার গঠনের পরিকল্পনা করেছিল। এই ছাত্র নেতৃবৃন্দ অনেক চেষ্টা করেছে এই সরকারকে, এই সরকারের রাজনীতিকে গনঅভ্যুত্থানের দিকে আনতে। কিন্তু নানা পক্ষ যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সাথে থাকলেও নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের সাথে নেই। তারা পুরোনো বন্দোবস্তের পক্ষে আছে। পুরোনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখার জন্য তারা সবকিছু করে যাচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে আমরা ঢাকায় দেখলাম, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা কথা বলে যাচ্ছি। জনগনকে আজকে বলতে হচ্ছে, অভুত্থানকারী নাগরিকদের আজকে বলতে হচ্ছে। আপনাদের আবার প্রস্তুতি নিতে হবে, আবারও মাঠে নামতে হবে। শহীদরা এই দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছে। খুলনাবাসীর উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, খুলনা একটি ঐতিহ্যের নগরী। এই খুলনা আজকে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যুগ যুগ ধরে এই খুলনা বঙ্গ অঞ্চলে শিল্প নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। কিন্তু সেই শিল্প গুলো একের পর এক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই সেই প্রতিষ্ঠান গুলোকে আবারও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আবারও পাটকল চালু করতে হবে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যা্য্য মজুরি দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা পৃথিবীর অনন্য নিদর্শন সুন্দরবন আমাদের এই খুলনা অঞ্চলে অবস্থিত। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে করে এই সুন্দরবনকে ধংবসের পায়তারা করা হয়েছিল। ভারতের সার্থ রক্ষা করার জন্য রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিভিন্ন দুর্গোগে আমরা দেখেছি এই খুলনা অঞ্চল, ঐই সুন্দরবন কিভাবে তার বেহাল দশায় পতিত হয়েছে। অথচ এই সুন্দরবন শতশত বছর ধরে এই ব- দ্ধীপের মানুষকে ঢাল হিসেবে পাহারা দিয়েছে। আমাদেরকে রক্ষা করে গিয়েছে। এই সুন্দরবনকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এই সুন্দরবন আমাদের। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েট প্রসঙ্গে, নাহিদ ইসলাম বলেন, খুলনা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুয়েট দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভিসির বিরুদ্ধে নেমেছে, শিক্ষকরা- ভিসিরা নিজেদের মধ্যে অন্তকোন্দলের কারনে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছেন। আমরা দাবি জানাচ্ছি, খুলনা এলাকার মানুষ, আপনাদের এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি কারো অন্তকোন্দলের কারনে বন্ধ থাকে, তাহলে আপনারা এটা মেনে নেবেন না। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিনাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী প্রমুখ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা: তাসনিম জারা সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এরপর নির্ধারিত কর্মসুচি অংশ হিসেবে এনসিপির নেতাকর্মীরা শিল্প নগরীর খালিশপুর পিপলস মোড়ে রাত ১০ টায় পথসভা করেন। পথসভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এসময় তিনি বলেন, খালিশপুরে বন্ধ পাটকল গুলোর শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করুন। সরকারকে পাটকল গুলো লিজপ্রথা বাতিল সহ বিজেএমসির লুটপাট, ও দুর্নীতি বন্ধ করে পাটকল গুলো পুনরায় রাস্ট্রিয় ব্যাবস্থাপনায় চালুর আহবান জানান। তিনি আরো বলেন এনসিপি রাস্ট্রিয় ক্ষমতায় আসলে শ্রমিদের দাবি শতভাগ পুরন করা হবে। এসময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন মিলের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।