নিজস্ব প্রতিবেদক, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা;
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নে একটি অভিযোগের গণশুনানীর সময় অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মঞ্জুরা আক্তারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে আসামি করা হয়েছে গড়াডোবা ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মঞ্জুরা আক্তার, নেত্রকোনা সদর উপজেলার কেগাতি ইউনিয়নের নারিয়াপাড়া গ্রামের মহিউদ্দিন তালুকদার (৪৫), এবং আটপাড়া উপজেলার সরমুশিয়া ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের তানজিলা শাহ রুবিকে (৩৫)।
তাদের মধ্যে মহিউদ্দিন তালুকদার ও তানজিলা শাহ রুবি নিজেদেরকে ‘গণমাধ্যম কর্মী’ বলে দাবি করলেও তারা কোনো বৈধ গণমাধ্যমের পরিচয় বা অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়—
গত ২৯ মে গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগের গণশুনানী শুরু করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা। এ সময় মহিউদ্দিন তালুকদার কোনো ধরনের অনুমতি না নিয়েই শুনানী কক্ষে প্রবেশ করে ২০ মিনিট ধরে ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন। এতে বিভ্রান্তি ছড়ায় ও প্রশাসনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।
এছাড়া ২ জুলাই গড়াডোবা ইউনিয়নে হোল্ডিং এসেসমেন্ট কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপস্থিত ছিলেন। সেখানেও মঞ্জুরা আক্তার ও তানজিলা রুবির সহায়তায় মহিউদ্দিন তালুকদার চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দিলে ‘মিডিয়ায় অপপ্রচার’ চালানোর হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে ১০ জুলাই ইউএনও কার্যালয়ে সকল ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে তদন্ত শুরু হলে মঞ্জুরা আক্তার উত্তেজিত হয়ে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সেই সময় মহিউদ্দিন ও তানজিলা কৌশলে আংশিক ভিডিও ধারণ করে তা বিকৃতভাবে ফেসবুকে প্রচার করেন।
আরও অভিযোগ—
মহিউদ্দিন তালুকদার তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে ইউএনও’র নাম উল্লেখ করে ‘মেম্বারি চুদিয়ে দেব’— এই ধরনের অশ্লীল ও মানহানিকর উক্তি প্রচার করেন। তানজিলা শাহ রুবিও ফেসবুক লাইভে এসে ইউএনও ও ইউপি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য দেন।
মামলার বাদী বলেন
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, “আমি বহুদিন যাবৎ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রকৃত সাংবাদিকদের আমি সবসময় সহযোগিতা করেছি। কিন্তু যারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে এবং সরকারি কাজে বাধা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।”
আসামিপক্ষের বক্তব্য
মহিউদ্দিন তালুকদার বলেন, “আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলাম। ফেসবুকে তথ্যপ্রমাণসহ পোস্ট দিয়েছি। একটি পোস্ট নিয়ে আপত্তি উঠলে তা ডিলিট করে দিয়েছি। আমাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এই মামলা করা হয়েছে।
নারী ইউপি সদস্য মঞ্জুরা আক্তার বলেন, “আমি প্রকল্পের চেক উত্তোলন সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা করেছি। এর প্রতিশোধ নিতেই আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
ইউএনও’র প্রতিক্রিয়া
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। কিন্তু মহিউদ্দিন ও তানজিলার সাংবাদিকতার কোনো বৈধ পরিচয়পত্র নেই। তারা ইউপি সদস্য মঞ্জুরার সহায়তায় ভিডিও বিকৃতি করে প্রশাসনকে হেয় করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ যৌক্তিক।”
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও বিকৃত তথ্য প্রচার আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।