কেন্দুয়া(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত চলাকালে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুর ১২টার দিকে গড়াডোবা ইউনিয়নের একটি সড়ক নির্মাণকাজ পরিদর্শনের সময় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে সড়ক নির্মাণকাজের তদন্তে আসেন নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুখময় সরকার। এসময় কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার, গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক আসাদুজ্জামান, বাদী-বিবাদী ও স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে ৩৭ নং জহরবানু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হালিম মাস্টারের সঙ্গে সাংবাদিক মহিউদ্দিনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিক মহিউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে হালিম মাস্টারকে ঘুষি মারেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে হালিম মাস্টার মাটিতে পড়ে গেলে উপস্থিত গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিক মহিউদ্দিনের ওপর চড়াও হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার ও স্থানীয় সাংবাদিকরা মহিউদ্দিনকে জনরোষ থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। এসময় ইউএনও সামান্য আহত হন।
এ বিষয়ে হালিম মাস্টার অভিযোগ করে বলেন,
“আমি শুধু বলেছিলাম সাংবাদিক মহিউদ্দিন যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। এতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বুকে ঘুষি মারেন। আমি মাটিতে পড়ে গেলে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।”
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুখময় সরকার বলেন,
“আমরা নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তদন্ত করছিলাম। হঠাৎ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন,
“জনগণ উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি সামান্য আহত হয়েছি। তবে আমরা সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।