
মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :
খুলনার রেলভুমির ভাড়া তিনগুনের বেশি বৃদ্ধির প্রতিবাদে ক্ষুদ্ধ ব্যাবসায়ীরা আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আজ ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সন্মেলন করে এ তথ্য জানান, ১৮ ব্যবসায়ী সংগঠনের জোট রেলভুমি ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ। ব্যবসায়ীরা জানান, রেল ভুমি প্রতি বর্গফুট ৭০ টাকা করে ভাড়া একলাফে ২০০ টাকা করা হয়েছে। ভ্যাট ও আয়কর যোগকরে যা ২৪০ টাকায় দাড়িয়েছে। এতে যে দোকান ভাড়া ৫০ হাজার টাকা ছিল, তা এখন এক লাফে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা হয়েছে। এতো ভাড়া পরিশোধের সক্ষমতা তাদের নাই। এই ভাড়া কার্যকর হলে সবাই লোকসানের মুখে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন। অযৌক্তিক ভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ও রেল উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসুচি করেন তারা। এর মধ্যে ভাড়া প্রত্যাহার না হলে রেলভবন ঘেরাও কর্মসুচির হুশিয়ারি দেওয়া হয়। সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান রেলভুমি ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব আবু সাঈদ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পরিষদের আহবায়ক ও খুলনা চেম্বারস অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি শরীফ আতিয়ার রহমান ও চেম্বারস অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মুনীর আহমেদ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৩ সালে রেলভুমির প্রতিবর্গ ফুটের ভাড়া ছিল ২৫ টাকা, এরপর ভাড়া বাড়িয়ে ৫০ টাকা এবং ২০২১ সালে ৭০ টাকা করা হয়। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে সেই ভাড়া বাড়িয়ে প্রতি বর্গফুট ২০০ টাকা করা হয়েছে। অথচ ভৈরব নীর তীরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কতৃপক্ষ ( বিআইডব্লিউটিএ) ব্যবসায়ীদের কাছে ভুমি ভাড়া দেয়। সেই ভুমি ভাড়া প্রতি বর্গফুট ৩ টাকা। জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের কাছে জমি ইজারা ও ভাড়া দেন। তাদের ভাড়া প্রতি বর্গফুট ৩ টাকা ৮৮ পয়সা। ব্যসায়ীরা বলেন রেলওয়ের পতিত ডোবা – নালা ভরাট করে ব্যবহার উপযোগী করে ব্যবসায়ীরা সেখানে ব্যবসা করছেন। ভুমির ওপর তৈরি স্থাপনাও তাদের নিজ খরচে নির্মান করা। শুধুমাত্র ভুমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েই রেল প্রতি বর্গফুট ২০০ টাকা ভাড়া ধার্য করেছে। অথচ খুলনা শহরের বানিজ্যিক এলাকা গুলোতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নিমিত সুসজ্জিত ভবনের ভাড়া সর্বোচ্চ প্রতি বর্গফুট ৫০ টাকা। তারা জানান, খুলনার কদমতলা, বড়বাজার, স্টেশন রোড, ডাকবাংলো মোড়, রেলওয়ে হাসপাতাল রোড সহ আশপাশের রেলের জমি ভাড়া নিয়ে প্রায় ৫/৬ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করছে প্রায় ৩০ হাজার কর্মচারি। বর্তমানে ব্যবসা বানিজ্যের দুরবস্থা চলছে। এই ভাড়া দিতে বাধ্য হলে সব ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়বেন। অনেকে দোকান পাট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন। এতে হাজার হাজার মানুষ বেকার হবে। সব মিলিয়ে ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুঁজি আটকে যাবে। খুলনার অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। সংবাদ সন্মেলন থেকে রেলের অযৌক্তিক ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানান। সংবাদ সন্মেলনে কোষাধ্যক্ষ ও কাঁচা পাকা আড়ৎদার সমিতির সভাপতি আবদুর রব মাস্টার, খুলনা বাজার সমন্বয় ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম মাসুম সহ ১৮ টি সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।











