নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জে দেশীয় অস্ত্র তৈরির একটি গোপন কারখানা আবিষ্কারের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, “মায়ের দোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ” নামের ওই প্রতিষ্ঠানে মিল ও শিল্পকারখানার যন্ত্রাংশের আড়ালে পাইপগান, পিস্তলসহ নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র তৈরি হতো। এ ঘটনার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে দুই ভাই—হাবিবুর রহমান ও মাহবুব রহমানকে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র তৈরি ও বিপণনের নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছেন। স্থানীয়রা জানান, ওয়ার্কশপটিতে দিনের বেলায় বৈধ কাজ চললেও রাতের আঁধারে চলতো অবৈধ অস্ত্র তৈরির গোপন মিশন। এসব অস্ত্র সরবরাহ করা হতো নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের জেলায় এবং রাজধানী ঢাকার কিশোর গ্যাং ও মাদক চক্রের কাছে।
অভিযুক্তদের পরিচয় - বড় ভাই: মো. হাবিবুর রহমান। পিতা- জয়নাল আবেদিন, মাতা- দেলোয়ারা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা- দড়ি হাইরমারা, রায়পুরা, নরসিংদী। পেশা- ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি ও অস্ত্র সরবরাহকারী (অভিযোগিত)।ছোট ভাই: মাহবুব রহমান। জন্ম ৯ অক্টোবর ১৯৯৬। পাসপোর্ট নং- অ ০৪২৩২৪২২, জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ১৯৯৬৬৮১৬৪৪৪০০২৬১৫। পেশা- লেদ মেশিন টেকনিশিয়ান। পূর্বে ছাত্রলীগের হাইরমারা ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মাত্র এক দশক আগেও যারা সাধারণ লেবার ছিলেন, কীভাবে এত দ্রুত সময়ে তারা অর্ধশত কোটি টাকার মালিক হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্র ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থে তারা হাসনাবাদ বাজার এলাকায় একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—
মেসার্স মায়ের দোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ
মেসার্স মায়ের দোয়া ইলেকট্রনিক্স
মেসার্স হাবিব স্টিল মেটাল অ্যান্ড থাই অ্যালুমিনিয়াম
এছাড়া সম্প্রতি তারা স্থানীয়ভাবে জমি কিনে নতুন ফ্যাক্টরি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। স্থানীয় গুঞ্জনে আরও জানা গেছে, বড় ভাই হাবিবুর রহমান তার শ্বশুরের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ব্রিক ফিল্ড ব্যবসায় আনুমানিক ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সশস্ত্র গ্রুপের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই দুই ভাই বিগত সময়ে প্রতিপক্ষের অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের সাথে যুক্ত ছিলেন। মাহবুব রহমান বিদেশে পালিয়ে গেলেও বড় ভাই হাবিবুর রহমান এখনও এলাকায় অবস্থান করছেন এবং পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলে অস্ত্র কারখানার গোপন তথ্য বের হয়ে আসবে। ইতোমধ্যে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বিভিন্ন অভিযানে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। তবে এখনো মূল নেটওয়ার্ক ভাঙা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত ও আইনের আওতায় না আনলে রায়পুরাসহ আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে। এখন প্রশ্ন একটাই—অভিযুক্ত মাহবুব-হাবিব ভ্রাতৃদ্বয় কি পারবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজেদের আড়াল করতে?