
দেশ স্বাধীন হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু আজও মানুষ স্বাধীনভাবে নিশ্বাস নিতে পারছে তো?
এই প্রশ্নটাই আজ সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।
যে দেশের রাজপথে একদিন তরুণরা বুক পেতে দিয়েছিল স্বাধীনতার জন্য, আজ সেই রাজপথে ভয় খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি আর অন্ধকার রাজনীতির। কাগজের পরিসংখ্যান আর বাস্তবতার মাঝে এখন এক নিঃশব্দ যুদ্ধ চলছে যেখানে হারছে মানুষ, জিতছে ভয়।
প্রতিদিনের পত্রিকার শিরোনামগুলো যেন একেকটি অশ্রুর ফোঁটা। হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এই শব্দগুলো এত ঘনঘন দেখা যায় যে, এখন আর শিহরণ জাগায় না; কেবল অসাড়তা এনে দেয়।
বলা হচ্ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের আগমনে দেশে নতুন ভোর উঠবে। আইন শৃঙ্খলা ফিরবে, অপরাধের লাগাম টানা যাবে। কিন্তু সেই ভোরটা এখনও আসেনি। বরং রাতটাই আরও গভীর হচ্ছে।
মানুষ এখন পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়।
অভিযোগ করলে হারায় জীবন, চুপ থাকলে হারায় সম্মান।
চাঁদা না দিলে দোকানে তালা, প্রতিবাদ করলে মামলা। এ যেন এক অদৃশ্য কারাগার, যার প্রাচীর সর্বত্র।
সামাজিক বৈষম্য, বেকারত্ব, মাদক এই তিনের ত্রাসে আজকের তরুণ প্রজন্ম হারাচ্ছে দিকনির্দেশ। রাজনীতির ছায়ায় জন্ম নিচ্ছে অপরাধের নতুন বীজ, আর রাষ্ট্রের চোখ বুঁজে থাকা যেন এক প্রকার অনুমোদন।
একজন সাধারণ নাগরিক এখন খবর পড়ে, মাথা নিচু করে ভাবে
এই দেশটা কি সত্যিই আমার?
রাষ্ট্র তখনো নিশ্চুপ, প্রশাসন বলে তদন্ত চলছে, আর গণমাধ্যম গুনে চলে হত্যার সংখ্যা।
মানুষ চায় না আর বক্তৃতা
তারা চায় নিরাপদ হাঁটাচলা, নিশ্চিন্ত ঘুম, আর সকালে সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর বিশ্বাস।
অপরাধ এখন শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটা এক মানসিক দুর্ভিক্ষ
যেখানে ন্যায়বিচার বিলাসিতা, আর অন্যায়ই নিত্যসঙ্গী।
আজ এই দুর্ভিক্ষের শেষ কবে হবে
কেউ জানে না।
তবে ইতিহাস জানে
যখন অন্যায় দীর্ঘ হয়, তখনই নীরব মানুষই একদিন ঝড় হয়ে ওঠে।
~ রেজুয়ান হাসান

রেজুয়ান হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক 









