
মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ( বিএমএ) খুলনা জেলার সভাপতি ও নাগরিক নেতা ডা: বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে সংবাদ সন্মেলন করেছেন তার দুই মেয়ে। সকাল সাড়ে ১১ টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সন্মেলন করে তারা অভিযোগ করেন, ৩৬ বছর আগে তাদের বাবা পরিকল্পিতভাবে মাকে হত্যা করে। মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর তারা আদালতে মামলা করেছেন। এরপর ডা: বাহারুল আলম অনৈতিক সম্পর্ক ও অন্য নারীর প্ররোচনায় তাদের দুই বোনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি এবং পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড থেকে তাদের অপসারণ সহ নানাভাবে হয়রানি করছেন। সংবাদ সন্মেলন বাবার বিরুদ্ধে নৈতিক আস্ফালন, অন্য ধর্মের নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, স্বাক্ষর জাল করে ফ্লাট বিক্রি ও ঋন নেওয়া সহ অভিযোগ করেন দুই মেয়ে। অবশ্য ডা: বাহারুল আলম সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পড়ে শোনান ডা: বাহারের বড় মেয়ে শেখ তামান্না আলম। তিনি এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এসময় ছোট মেয়ে ডা: তাসনুভা আলম উপস্থিত ছিলেন। তিনি কোম্পানির পরিচালক। সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডাঃ বাহারুল আলমের বড় মেয়ে শেখ তামান্না আলম বলেন, আমার পরিবারের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চরম অস্থিরতা এবং বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুঃখজনক বিনা দ্ধিধায় বলতে হচ্ছে, আমার বাবার সঙ্গে একজন বিবাহিতা ভিন্ন ধর্মের নারীর অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। যা আমাদের পুরো পরিবারকে সামাজিক, মানসিক এবং নৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। তিনি বলেন, আমার মা ডা: শামসুন্নাহার ১৯৮৯ সালে ১৩ নভেম্বর মারা যান। মা মারা যাওয়ার সময় আমি এবং আমার ৭ বছরের ছোট বোনকে রেখে যান। আমার বয়স ছিল মাত্র তখন ১৪ বছর। বাবার অনেক অন্যায় চোখের সামনে দেখেও ছোট বোনের কথা চিন্তা করে কোনো প্রতিবাদ করিনি। আজ এমন এক পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে যে, এখন একজন অন্য ধর্মের নারী, তার স্বামী সংসার সহ শুধু অর্থের লোভে আমার বাবাকে আমাদের থেকে অনেক দুরে সরিয়ে নিয়েছে। ঔই নারী আমাদের প্রতিষ্ঠানে ১৩০০ টাকা বেতনের একজন কর্মচারী ছিলেন। আমার বাবার স্বেচ্ছাচারিতার কারনে ঔই নারী একই প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক হয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও বাবার বন্ধু মহলে বহুবার সমাধান ও নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ হয়েছি। উল্টো ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে আমি ও আমার বোনের প্রতিটি দিন কাটছে আতংক নিয়ে। আমার বাবার সহযোগীতায় হেনা রানী ভৌমিকের স্বামী বিভিন্ন সময়ে আমাদের বাসায় এসে আমাদের কর্মচারীদের সামনে আমাদের দুই বোনকে অকথ্য ভাষায় প্রায়ই গালিগালাজ করে। অব্যাহত হুমকির মুখে সোনাডাঙ্গা থানায় আমরা ডিডি করেছি। সংবাদ সন্মেলনে তামান্না বলেন, ডা: শেখ বাহারুল আলম নিজ বাসা ও বিএমএ ভবন ব্যবহার করে রিফাইন্ড আওয়ামীলীগ তৈরির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ তার একটি নেশা। তিনি এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে ইনভেস্টর হিসেবে সম্পর্ক তৈরি করে তাদের অর্থ ইনভেস্ট করান এবং পরবর্তীতে তাদের অর্থ আত্মসাৎ করে থাকেন। আমি বাধা দিলে আমার এমডি পদ বাতিল এবং লিখিত জাবাব দিতে হয়েছে। এঘটনায় স্মার্ট এগ্রো বিডির তত্ত্বাধিকারী মিসেস লুবনা জাহান তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা চলমান রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন আমি কানাডায় থাকা অবস্থায় আমার সাক্ষর জালিয়াতি করে আমমোক্তার নামা তৈরি করে আমার ঢাকাস্থ একটি ফ্লাট তার নামে লিখে নিয়ে এ বছর ৭০ লক্ষ টাকা বিক্রি করেছেন। আমার বোন ডাঃ তাসনুভা আলমের সাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া আমমোক্তার তৈরি করে ২০২১ সালে পুবালী ব্যাংক হতে আমার বোন ও আমার নামে ৩০ লাখ টাকা ঋন নিয়েছে। এ বিষয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমি ও আমার বোন তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি জালিয়াতি মামলা করেছি। বর্তমানে ডা: বাহারুল আলম হেনা রানী ভৌমিককে এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ১০ হাজার শেয়ার লিখে দিয়েছেন, যা কোম্পানির আইন বহির্ভুত। বিষয়টি নিয়ে অন্য একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে ডা: বাহারুল আলম অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে বলেন, ১৯৮৯ সালে সুইসাইডাল নোট রেখে আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করেন। বিষয়টি পুলিশের তদন্তে প্রমানিত। মেয়েদের উশৃঙ্খল আচরণের কারনে কোম্পানির পরিচালকরা এমডিকে অপসারন করেছে। তিনি বলেন, এই শহরের বেশিরভাগ মানুষ আমাকে চেনে, আমার সম্পর্কে জানে। এমন অভিযোগ গত ৪০ বছরেও কেউ তোলেনি। মেয়েরা যা বলেছে, কোনটিই সত্য নয়। প্রতিটি প্রমানও আমার কাছে রয়েছে। তারা যেভাবে বলছে, আমিত তাদের বিপক্ষে এভাবে বলতে পারি না। সময় করে আসলে সব দেখাতে পারবো।











