মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার ৭ বছরের শিশু জিসানের হত্যার সাথে জড়িত ফয়সালের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। আজ ১২ অক্টোবর আনুমানিক সকাল ১১ টার দিকে এলাকাবাসী ও মন্ডল মিলের শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ফয়সালের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। নিহত জিসানের পিতা মো: আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে রবিবার ফয়সাল সহ তার পিতা মাতাকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর - ১২/১০/২৫। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ফয়সাল(২৫), তার পিতা জিএম হান্নান(৫২), মাতা মাহিনুর বেগম(৪৫) কে গ্রেফতার করেছে। দিঘলিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই লিটন কুমার মন্ডল বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু জিসানের ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পিতার গ্রামের বাড়ি শেরপুরে দাফন করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িত ফয়সালের পিতা জিএম হান্নান,মাতা শাহিনুর বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তথ্য উৎঘাটনে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে শিশু জিসানকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি ও ফাসির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দেয়াড়া এলাকাবাসী এ মানববন্ধন আয়োজন করে। রবিবার বেলা ১১ টায় দেয়াড়াঘাটে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বক্তব্যে রাখেন, শেখ আবু জাফর, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, শেখ মাহাবুব আলম, মোল্লা নাজমুল হক, মো: জহিরুল ইসলাম, জিয়া উদ্দিন মিল্টন,মোল্লা রাজু আহমেদ, মাহমুদুল হাসান মিঠু, আব্দুল কাদের জনি, মোহাম্মাদ আলী টুটুল, হালিম খলিফা,রাজু আহমেদ, সোহেল জাফর মঈন, মানববন্ধনে বক্তারা নিস্পাপ শিশু জিসানকে ফয়সাল ও তার পিতা হান্নান এবং পরিবার কতৃক নির্মমভাবে হত্যার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি করেন। প্রসঙ্গত, শনিবার ১১ অক্টোবর বিকালে দেয়াড়া খেয়াঘাট সংলগ্ন জিএম হান্নান হোসেনের বাড়ির উঠান থেকে হাত,পা বাঁধা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো বস্তার ভেতর থেকে শিশু জিসানের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক তিনটার দিকে নিহত জিসান পার্শবর্তী চাচার বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে জিসান নিখোজ হয়। এর আগে শিশু জিসান ৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর তার পিতা দিঘলিয়া থানায় একটি সাধারণ জিডি করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ এলাকার সিসি ফুটেজ পর্যবেক্ষন করে শিশু জিসানকে শেষ দেখতে পায় ফয়সালের সাথে। পরে পুলিশ ফয়সালকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফয়সাল শিশু জিসানকে হত্যা করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। পরবর্তীতে দিঘলিয়া থানা পুলিশ ফয়সালকে সাথে নিয়ে তার নিজ বাড়ির উঠান থেকে হাত,পা বাঁধা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো শিশু জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে।