নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল কবি ওস্তাদ জালাল উদ্দীন খাঁকে স্মরণ করে নির্মিত ‘জালাল মঞ্চ’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে প্রশাসন স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, মঞ্চটি উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে নির্মিত। ফলকে শুধু উপজেলা প্রশাসনের নাম থাকা একটি কারিগরি ত্রুটি, যা ইতিমধ্যে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসক নেত্রকোনা মহোদয়ের উপস্থিতিতে এক আলোচনা সভা ও বাউলসন্ধ্যার মধ্য দিয়ে ‘জালাল মঞ্চ’ উদ্বোধন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে একাধিক ফলক স্থাপনের সময় ভুলবশত ‘জালাল মঞ্চ’-এর ফলকে কেবল উপজেলা প্রশাসনের নাম উল্লেখ করা হয়।
ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন,
“ত্রুটি বুঝে সঙ্গে সঙ্গে নতুন ফলক নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, যা দুঃখজনক।”
বিশ্বস্ত তথ্যসূত্রে যানা যায় ২০২৪ সালে বাউল জালাল উদ্দীন খাঁ একুশে পদক পাওয়ার পর তাঁর স্মৃতিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে কেন্দুয়ায় আয়োজন করা হয় ‘জালাল মেলা’। সেই সময় থেকেই একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক মঞ্চ নির্মাণের দাবি ওঠে।এবং এখানে উল্ল্যেখ্য যে, উপজেলা পরিষদের অক্টোবর ২০২৪ সালের সভায় মঞ্চ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় এবং ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
প্রেসনোট অনুযায়ী, মঞ্চ নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৯ লাখ ৭ হাজার টাকা, যার মধ্যে পৌরসভা বহন করেছে মূল কাঠামো ও মুরাল নির্মাণের খরচ, এবং উপজেলা পরিষদ সহায়তা দিয়েছে মাঠ ভরাট ও অবকাঠামোগত কিছু অতিরিক্ত কাজে।
ধাপ ব্যয় (টাকা) অর্থায়ন - মূল কাঠামো নির্মাণ ৭,০৯,২৫৩ কেন্দুয়া পৌরসভা।
মুরাল ও টাইলস কাজ ৯,৯৮,৫১০ কেন্দুয়া পৌরসভা।
মাঠ ভরাট ২,০০,০০০ উপজেলা পরিষদ।
অতিরিক্ত প্লাস্টার ও বর্ধিতকরণ ১,১৫,০০০ উপজেলা পরিষদ।
শিল্পীর পারিশ্রমিক ১,৫০,০০০ বকেয়া
‘জালাল মঞ্চ’-এর স্থাপত্য কাঠামোটি অর্ধচন্দ্রাকার নকশায় নির্মিত। এর পেছনের দেয়ালে স্থাপিত বিশাল মুরালে ফুটে উঠেছে কেন্দুয়ার লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের রূপ।
মুরালটি ডিজাইন করেছেন চারুশিল্পী রবিউল ইসলাম রুদ্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আটজন শিল্পী ১৫ দিন ধরে মুরালটি নির্মাণ করেন এবং পরে তা কেন্দুয়ায় স্থাপন করা হয়।
ইউএনও জানান, “মঞ্চের নকশা ও নির্মাণে স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির ছোঁয়া রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে এটি শুধু স্মৃতিস্তম্ভ নয়, কেন্দুয়ার শিল্পচর্চার কেন্দ্রও হয়ে ওঠে।”
আরো জানাযায় মঞ্চের সামনের অংশ আরও সম্প্রসারণ, মাঠে পার্কিং টাইলস বসানো, আলোকসজ্জা, বেস্টনী ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ নতুন কয়েকটি ধাপের কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ‘লোকসংস্কৃতির রাজধানী কেন্দুয়া’ শিরোনামে একটি সম্ভাষণ ফলক স্থাপন করার কথাও জানানো হয়েছে।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,
“এই মঞ্চের মাধ্যমে কেন্দুয়ার সংস্কৃতি, শিল্প ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে এমন ইতিবাচক উদ্যোগকে বিতর্কিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
প্রেসনোটে আরও বলা হয়, মঞ্চসংক্রান্ত সব আর্থিক ও প্রশাসনিক নথি উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় সংরক্ষিত আছে।
স্থানীয় সংস্কৃতিচর্চা ও সৃজনশীল উদ্যোগের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে এই ‘জালাল মঞ্চ’।
প্রশাসন আশা করছে, জনগণের সহযোগিতায় এটি হবে কেন্দুয়ার সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র।
শাহ আলী তৌফিক রিপন
নেত্রকোণা | ২১ অক্টোবর ২০২৫