খুলনা সিটি করপোরেশনের পরিচালিত খলিশপুর কলেজিয়েট গালর্স স্কুলের শিক্ষক - কর্মচারীরা গতকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। চার দফা দাবিতে এ আন্দোলন শুরু করেছেন বলে সংবাদ সন্মেলনে শিক্ষকরা জানান। সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সন্মেলনে তাদের দাবি সমুহ ও আন্দোলন কর্মসুচি ঘোষনা করেন।দাবি গুলো হলো ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা,শিক্ষক সংকট, স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠন না করা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা না পাওয়া ও প্রশাসনিক জটিলতা। সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন, স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক এস এম উজ্জ্বল। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আরেক শিক্ষক আল আমিন। সংবাদ সন্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পাচ বছরের মধ্যেই শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় আধুনিক ও সফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রথমবার এবং ২০২৫ সালে দ্ধিতীয়বার এসএসসি পরিক্ষায় শতভাগ পাস করেছে সহ ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এ- প্লাস ও ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এ- গ্রেড অর্জন করেছে। তবে এ সাফল্য সত্ত্বেও শিক্ষক, কর্মচারীরা গত ৫ বছরে কোন ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া বা চিকিৎসা ভাতা পাননি। তিব্র শিক্ষক সংকটের মধ্যেও তারা নিষ্ঠার সাথে পাঠদান ও সহ শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া গত মে মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত পাচজন খণ্ডকালীন শিক্ষক ও একজন অধ্যক্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এখনোও কার্যকর হয়নি। তদুপরি, ৩ জুন ২৫ শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের পরও পুর্নাঙ্গ ম্যানেজিং কমিটি গঠন না হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, একাধিক বৈঠকে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শরীফ আসিফ রহমান মৌখিক আশ্বাস দিলেও বাস্তব কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ঘোষিত কর্মসুচির অংশ হিসেবে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে কর্মবিরতি। এছাড়া আজ ২২ অক্টোবরের মধ্যে ম্যানেজিং কমিটি গঠন, জিবি মিটিংয়ের তারিখ ঘোষণা এবং পে- স্কেল অনুযায়ী বেতন- ভাতার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ২৩ অক্টোবর থেকে শিক্ষক কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসুচি ও অনশন।