সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর উপস্থিতি অতি গুরুত্বপূর্ণ। নারী কেবল পরিবার নয়, সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি—সবক্ষেত্রে অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আমাদের সমাজে নারীর অবস্থা এখনো সন্তোষজনক নয়। এখনও নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত, নিপীড়িত এবং অবহেলিত। সমাজ ও রাষ্ট্র নারীর জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রায়ই ব্যর্থ হচ্ছে।
দেশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে এখনও নারীবিদ্বেষী মনোভাব বিদ্যমান। এটি নতুন কিছু নয়; বরং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কূটনীতির ফল। নারী কোথাও নিরাপদ নয়—চাকুরীক্ষেত্র হোক বা জনসভা, ঘর হোক বা রাস্তা, নারীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য, যৌন হয়রানি, এবং সামাজিক ব্যাঘাত আজও স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখা হয়।
নারীরও অনুভূতি, মর্যাদা, এবং স্বাধীনভাবে চলার অধিকার আছে। তাদের পুরুষদের সাথে সমানভাবে চলার, কাজ করার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু আমরা প্রায়ই এই সত্যকে স্বীকার করতে চাই না। সমাজের একটি অংশ নারীকেই যৌন বস্তু বা নিম্নশ্রেণীর হিসেবে দেখার চেষ্টা করে।
আমাদের জন্য জরুরি—নারীদের প্রতি সহিংসতা ও অবমাননার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। নারীর অধিকার রক্ষা করা সমাজের নৈতিকতা ও মানবতার রক্ষা করা। নারীর জীবনকে সম্মান, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার সঙ্গে দেখতে চাইলে আমাদের সকলে সচেতন হতে হবে। প্রতিটি নারীর হাসি, সাফল্য এবং স্বাধীনতা আমাদের সমাজকে আরও শক্তিশালী করবে।
লিখক,
গোলাম কিবরিয়া ফারাজ
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা