, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মুক্তাগাছায় পরিবেশ অধিদপ্তরএবং জেলাও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ ইট বাটার প্রস্তুত বিরুদ্ধে মোবাইল কোট পরিচালিত মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ পরিবেশ অধিদপ্ত, জেলা কার্যালয় এবং উপজেলা প্রশাসন, মুক্তাগাছার এর যৌথ উদ্যোগে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার সাবানিয়া মোড়, কাঠবাওলা নামক এলাকায় মুক্তাগাছা উপজেলার সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব লুবনা আহমেদ লুনার নেতৃত্বে আজ ২০নভেম্বর বৃহস্পতিবার অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ ( সংশৈাধিত ২০১৯) এর আলোকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় । মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে বর্ণিত আইনের ধারা ৫(২) ও ৮(৩) এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে জেলা প্রশাসকের অনুমতি ব্যতীত এবং নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন, পরিচালনার অপরাধে মেসার্স মদিনা ব্রিকস নামক ইটভাটার চিমনিসহ দেয়াল ভেঙ্গে সম্পূর্ণরূপে ঘুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং একইসাথে ইটভাটার সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উক্ত মোবাইল কোর্টে পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাজিয়া উদ্দিন, পরিদর্শক মোঃ রুকন মিয়া প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের এর সদস্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তুমি এতো অভিমানী কেনো মেয়ে? ~ সুমি ইসলাম  অলকার বারান্দায় __সালমা আক্তার বন্ধু বিক্রি আছে কি কোথাও? ~ রেজুয়ান হাসান খুলনার ৬ আসনে আমন্ত্রন পেলেন যারা, মনোনয়ন প্রত্যাশিতীদের সাথে তারেক রহমানের বৈঠক আজ। যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতা আব্দুল্লাহ হক শাকুর শোডাউন। ব্যাংক সমিতির ঋণ ~ তাছলিমা আক্তার মুক্তা। নতুন কুঁড়ি প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায়” রবীন্দ্রসঙ্গীতে প্রথম কেন্দুয়ার তাজকিয়া ফেরদৌসী। লামা ছাগলখাইয়া ইয়াং স্টার ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত।

আগের আমলের সেই মাফিয়াদেরকে একটি রাজনৈতিক দল প্রশ্রয় দিচ্ছে : নাহিদ ইসলাম। 

  • প্রকাশের সময় : ১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • ২২১ পড়া হয়েছে

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

দেশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির ( এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগের আমলে আমরা দেখেছি গুটি কয়েক ব্যবসায়ী মাফিয়ায় পরিনত হয়েছিল। সেই মাফিয়াদেরকে এখন একটি রাজনৈতিক দল প্রশ্রয় দিচ্ছে। অন্য দিকে আমাদের ক্ষুদ্র মাঝারি ও খেটে খাওয়া ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের তাড়নায় তারাও বেহাল হয়ে রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীদের রক্ষা করব,সৎ দেশ প্রেমিক ব্যবসায়ীদের আমরা রক্ষা করবো। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিকে চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসের কবল থেকে আমরা রক্ষা করবো। শুক্রবার ১১ জুলাই রাতে খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে এনসিপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। গনঅভ্যুত্থান অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম জুলাই গনঅভ্যুত্থানের কোন শেষ ছিল না। কোন সমাপ্ত ছিল না। জুলাই গনঅভ্যুত্থান ছিল নতুন বাংলাদেশের শুরু। ছাত্র, তরুন ও শ্রমিকের আন্দোলনের শুরু। সেই আন্দোলন আমাদেরকে চলমান রাখতে হবে। আমরা বলে দিতে চাই, নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায়, গনতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নাগরিক পার্টি গনঅভ্যুত্থানের সব ছাত্র তরুন এখনোও মাঠে রয়েছে। আপনারা যতই চেষ্টা করুন আমাদেরকে মাঠ থেকে সরাতে পারবেন না। আমরা মাঠে থাকবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, শহীদ পরিবাররা নতুন বাংলাদেশে কোন চাঁদাবাজি সংস্কৃতি দেখতে চায়নি। শহীদরা সন্ত্রাসীদের জন্য, চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যের জন্য জীবন দেন নি।আমরা বলেছিলাম নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা দ্ধিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। আর তারা ভবেছিল লুটপাটের স্বাধীনতা পেয়েছে।যদি ভেবে থাকেন লুটপাটের স্বাধীনতা পেয়েছেন, খুবই ভুল ভাবছেন। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে জনগন যেভাবে রাজপথে নেমেছিল। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একইভাবে রাজপথে নামতে হবে। আপনারা প্রস্তুত হন। আমরা খুলনাবাসীকে বলছি আপনারা প্রস্তুত হন। আমরা ৩ আগষ্ট ঢাকায় আসছি, এইসব কিছুর জবাব দেওয়া হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জুলাই গনঅভ্যুত্থানে এক বছর পার করেছি। কিন্তু আজকে ঢাকায় এবং খুলনায় বিভৎস্য ঘটনা ঘটেছে। চোখে দেখার মতো না এই ঘটনা। রাজনৈতিক সহিংসতা আমরা দেখেছিলাম এক গনঅভ্যুত্থানে পর আমাদের দেখতে হচ্ছে। এটা দুঃখের, এটা আমাদের কষ্টের। তিনি বলেন, গনঅভ্যুত্থানের পর আমরা বলেছিলাম, যেই ফ্যাসিবাদি ব্যবস্থা মাফিয়া তৈরি করে, যেই ব্যবস্থা দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেয়, যেই ব্যবস্থা সন্ত্রাসীদের তৈরি করে, যেই ব্যবস্থা জনগনের বিরুদ্ধে দাড়ায় সেই ব্যবস্থা পুলিশ বাহিনীকে খুনি বাহিনীতে রুপান্তরিত করে। সেই ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে হবে। সেই ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে নতুন গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা গঠন করতে হবে কিন্তু নানাভাবে ৫ আগষ্ট থেকে ষড়যন্ত্র হয়েছে এই ছাত্রদের বিরুদ্ধে। আমরা দেখেছিলাম ৫ আগষ্ট কারা ক্যান্টমেন্টে গিয়েছিল। অভুত্থানের নেতৃবৃন্দের বাদ দিয়ে সরকার গঠনের পরিকল্পনা করেছিল। এই ছাত্র নেতৃবৃন্দ অনেক চেষ্টা করেছে এই সরকারকে, এই সরকারের রাজনীতিকে গনঅভ্যুত্থানের দিকে আনতে। কিন্তু নানা পক্ষ যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সাথে থাকলেও নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের সাথে নেই। তারা পুরোনো বন্দোবস্তের পক্ষে আছে। পুরোনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখার জন্য তারা সবকিছু করে যাচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে আমরা ঢাকায় দেখলাম, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা কথা বলে যাচ্ছি। জনগনকে আজকে বলতে হচ্ছে, অভুত্থানকারী নাগরিকদের আজকে বলতে হচ্ছে। আপনাদের আবার প্রস্তুতি নিতে হবে, আবারও মাঠে নামতে হবে। শহীদরা এই দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছে। খুলনাবাসীর উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, খুলনা একটি ঐতিহ্যের নগরী। এই খুলনা আজকে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যুগ যুগ ধরে এই খুলনা বঙ্গ অঞ্চলে শিল্প নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। কিন্তু সেই শিল্প গুলো একের পর এক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই সেই প্রতিষ্ঠান গুলোকে আবারও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আবারও পাটকল চালু করতে হবে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যা্য্য মজুরি দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা পৃথিবীর অনন্য নিদর্শন সুন্দরবন আমাদের এই খুলনা অঞ্চলে অবস্থিত। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে করে এই সুন্দরবনকে ধংবসের পায়তারা করা হয়েছিল। ভারতের সার্থ রক্ষা করার জন্য রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিভিন্ন দুর্গোগে আমরা দেখেছি এই খুলনা অঞ্চল, ঐই সুন্দরবন কিভাবে তার বেহাল দশায় পতিত হয়েছে। অথচ এই সুন্দরবন শতশত বছর ধরে এই ব- দ্ধীপের মানুষকে ঢাল হিসেবে পাহারা দিয়েছে। আমাদেরকে রক্ষা করে গিয়েছে। এই সুন্দরবনকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এই সুন্দরবন আমাদের। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েট প্রসঙ্গে, নাহিদ ইসলাম বলেন, খুলনা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুয়েট দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভিসির বিরুদ্ধে নেমেছে, শিক্ষকরা- ভিসিরা নিজেদের মধ্যে অন্তকোন্দলের কারনে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছেন। আমরা দাবি জানাচ্ছি, খুলনা এলাকার মানুষ, আপনাদের এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি কারো অন্তকোন্দলের কারনে বন্ধ থাকে, তাহলে আপনারা এটা মেনে নেবেন না। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিনাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী প্রমুখ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা: তাসনিম জারা সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এরপর নির্ধারিত কর্মসুচি অংশ হিসেবে এনসিপির নেতাকর্মীরা শিল্প নগরীর খালিশপুর পিপলস মোড়ে রাত ১০ টায় পথসভা করেন। পথসভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এসময় তিনি বলেন, খালিশপুরে বন্ধ পাটকল গুলোর শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করুন। সরকারকে পাটকল গুলো লিজপ্রথা বাতিল সহ বিজেএমসির লুটপাট, ও দুর্নীতি বন্ধ করে পাটকল গুলো পুনরায় রাস্ট্রিয় ব্যাবস্থাপনায় চালুর আহবান জানান। তিনি আরো বলেন এনসিপি রাস্ট্রিয় ক্ষমতায় আসলে শ্রমিদের দাবি শতভাগ পুরন করা হবে। এসময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন মিলের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রিয়

মুক্তাগাছায় পরিবেশ অধিদপ্তরএবং জেলাও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ ইট বাটার প্রস্তুত বিরুদ্ধে মোবাইল কোট পরিচালিত মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ পরিবেশ অধিদপ্ত, জেলা কার্যালয় এবং উপজেলা প্রশাসন, মুক্তাগাছার এর যৌথ উদ্যোগে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার সাবানিয়া মোড়, কাঠবাওলা নামক এলাকায় মুক্তাগাছা উপজেলার সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব লুবনা আহমেদ লুনার নেতৃত্বে আজ ২০নভেম্বর বৃহস্পতিবার অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ ( সংশৈাধিত ২০১৯) এর আলোকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় । মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে বর্ণিত আইনের ধারা ৫(২) ও ৮(৩) এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে জেলা প্রশাসকের অনুমতি ব্যতীত এবং নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন, পরিচালনার অপরাধে মেসার্স মদিনা ব্রিকস নামক ইটভাটার চিমনিসহ দেয়াল ভেঙ্গে সম্পূর্ণরূপে ঘুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং একইসাথে ইটভাটার সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উক্ত মোবাইল কোর্টে পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাজিয়া উদ্দিন, পরিদর্শক মোঃ রুকন মিয়া প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের এর সদস্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আগের আমলের সেই মাফিয়াদেরকে একটি রাজনৈতিক দল প্রশ্রয় দিচ্ছে : নাহিদ ইসলাম। 

প্রকাশের সময় : ১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

দেশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির ( এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগের আমলে আমরা দেখেছি গুটি কয়েক ব্যবসায়ী মাফিয়ায় পরিনত হয়েছিল। সেই মাফিয়াদেরকে এখন একটি রাজনৈতিক দল প্রশ্রয় দিচ্ছে। অন্য দিকে আমাদের ক্ষুদ্র মাঝারি ও খেটে খাওয়া ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের তাড়নায় তারাও বেহাল হয়ে রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীদের রক্ষা করব,সৎ দেশ প্রেমিক ব্যবসায়ীদের আমরা রক্ষা করবো। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিকে চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসের কবল থেকে আমরা রক্ষা করবো। শুক্রবার ১১ জুলাই রাতে খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে এনসিপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। গনঅভ্যুত্থান অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম জুলাই গনঅভ্যুত্থানের কোন শেষ ছিল না। কোন সমাপ্ত ছিল না। জুলাই গনঅভ্যুত্থান ছিল নতুন বাংলাদেশের শুরু। ছাত্র, তরুন ও শ্রমিকের আন্দোলনের শুরু। সেই আন্দোলন আমাদেরকে চলমান রাখতে হবে। আমরা বলে দিতে চাই, নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায়, গনতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নাগরিক পার্টি গনঅভ্যুত্থানের সব ছাত্র তরুন এখনোও মাঠে রয়েছে। আপনারা যতই চেষ্টা করুন আমাদেরকে মাঠ থেকে সরাতে পারবেন না। আমরা মাঠে থাকবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, শহীদ পরিবাররা নতুন বাংলাদেশে কোন চাঁদাবাজি সংস্কৃতি দেখতে চায়নি। শহীদরা সন্ত্রাসীদের জন্য, চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যের জন্য জীবন দেন নি।আমরা বলেছিলাম নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা দ্ধিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। আর তারা ভবেছিল লুটপাটের স্বাধীনতা পেয়েছে।যদি ভেবে থাকেন লুটপাটের স্বাধীনতা পেয়েছেন, খুবই ভুল ভাবছেন। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে জনগন যেভাবে রাজপথে নেমেছিল। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একইভাবে রাজপথে নামতে হবে। আপনারা প্রস্তুত হন। আমরা খুলনাবাসীকে বলছি আপনারা প্রস্তুত হন। আমরা ৩ আগষ্ট ঢাকায় আসছি, এইসব কিছুর জবাব দেওয়া হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জুলাই গনঅভ্যুত্থানে এক বছর পার করেছি। কিন্তু আজকে ঢাকায় এবং খুলনায় বিভৎস্য ঘটনা ঘটেছে। চোখে দেখার মতো না এই ঘটনা। রাজনৈতিক সহিংসতা আমরা দেখেছিলাম এক গনঅভ্যুত্থানে পর আমাদের দেখতে হচ্ছে। এটা দুঃখের, এটা আমাদের কষ্টের। তিনি বলেন, গনঅভ্যুত্থানের পর আমরা বলেছিলাম, যেই ফ্যাসিবাদি ব্যবস্থা মাফিয়া তৈরি করে, যেই ব্যবস্থা দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেয়, যেই ব্যবস্থা সন্ত্রাসীদের তৈরি করে, যেই ব্যবস্থা জনগনের বিরুদ্ধে দাড়ায় সেই ব্যবস্থা পুলিশ বাহিনীকে খুনি বাহিনীতে রুপান্তরিত করে। সেই ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে হবে। সেই ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে নতুন গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা গঠন করতে হবে কিন্তু নানাভাবে ৫ আগষ্ট থেকে ষড়যন্ত্র হয়েছে এই ছাত্রদের বিরুদ্ধে। আমরা দেখেছিলাম ৫ আগষ্ট কারা ক্যান্টমেন্টে গিয়েছিল। অভুত্থানের নেতৃবৃন্দের বাদ দিয়ে সরকার গঠনের পরিকল্পনা করেছিল। এই ছাত্র নেতৃবৃন্দ অনেক চেষ্টা করেছে এই সরকারকে, এই সরকারের রাজনীতিকে গনঅভ্যুত্থানের দিকে আনতে। কিন্তু নানা পক্ষ যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সাথে থাকলেও নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের সাথে নেই। তারা পুরোনো বন্দোবস্তের পক্ষে আছে। পুরোনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখার জন্য তারা সবকিছু করে যাচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে আমরা ঢাকায় দেখলাম, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা কথা বলে যাচ্ছি। জনগনকে আজকে বলতে হচ্ছে, অভুত্থানকারী নাগরিকদের আজকে বলতে হচ্ছে। আপনাদের আবার প্রস্তুতি নিতে হবে, আবারও মাঠে নামতে হবে। শহীদরা এই দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছে। খুলনাবাসীর উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, খুলনা একটি ঐতিহ্যের নগরী। এই খুলনা আজকে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যুগ যুগ ধরে এই খুলনা বঙ্গ অঞ্চলে শিল্প নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। কিন্তু সেই শিল্প গুলো একের পর এক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই সেই প্রতিষ্ঠান গুলোকে আবারও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আবারও পাটকল চালু করতে হবে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যা্য্য মজুরি দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা পৃথিবীর অনন্য নিদর্শন সুন্দরবন আমাদের এই খুলনা অঞ্চলে অবস্থিত। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে করে এই সুন্দরবনকে ধংবসের পায়তারা করা হয়েছিল। ভারতের সার্থ রক্ষা করার জন্য রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিভিন্ন দুর্গোগে আমরা দেখেছি এই খুলনা অঞ্চল, ঐই সুন্দরবন কিভাবে তার বেহাল দশায় পতিত হয়েছে। অথচ এই সুন্দরবন শতশত বছর ধরে এই ব- দ্ধীপের মানুষকে ঢাল হিসেবে পাহারা দিয়েছে। আমাদেরকে রক্ষা করে গিয়েছে। এই সুন্দরবনকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এই সুন্দরবন আমাদের। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েট প্রসঙ্গে, নাহিদ ইসলাম বলেন, খুলনা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুয়েট দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভিসির বিরুদ্ধে নেমেছে, শিক্ষকরা- ভিসিরা নিজেদের মধ্যে অন্তকোন্দলের কারনে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছেন। আমরা দাবি জানাচ্ছি, খুলনা এলাকার মানুষ, আপনাদের এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি কারো অন্তকোন্দলের কারনে বন্ধ থাকে, তাহলে আপনারা এটা মেনে নেবেন না। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিনাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী প্রমুখ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা: তাসনিম জারা সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এরপর নির্ধারিত কর্মসুচি অংশ হিসেবে এনসিপির নেতাকর্মীরা শিল্প নগরীর খালিশপুর পিপলস মোড়ে রাত ১০ টায় পথসভা করেন। পথসভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এসময় তিনি বলেন, খালিশপুরে বন্ধ পাটকল গুলোর শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করুন। সরকারকে পাটকল গুলো লিজপ্রথা বাতিল সহ বিজেএমসির লুটপাট, ও দুর্নীতি বন্ধ করে পাটকল গুলো পুনরায় রাস্ট্রিয় ব্যাবস্থাপনায় চালুর আহবান জানান। তিনি আরো বলেন এনসিপি রাস্ট্রিয় ক্ষমতায় আসলে শ্রমিদের দাবি শতভাগ পুরন করা হবে। এসময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন মিলের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।