
মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :
শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গ্রেফতার শাহাজাদীকে হাসপাতাল থেকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তাকে খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে উত্থাপন করা হয়। আদালতে শাহাজাদীর পক্ষে কেউ জামিনের আবেদন করেননি। ছিল না কোন আইনজীবী। তাই কোন শুনানিও হয়নি। আদালত শাহাজাদীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাহিরে শিশুটিকে দেখাশুনা করার কেউ না থাকায় শাহাজাদীর সঙ্গে তাকে খুলনা জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মায়ের সঙ্গে ১১ দিনের শিশুকে কারাগারে যেতে উপস্থিত অনেকেই চোখ মুছতে দেখাগেছে। বাগেরহাটের রামপালের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ও ফকিরহাটের মেয়ে শাহাজাদীর সংসারে ৪ টি কন্যা শিশু রয়েছে। গত বছর আবার গর্ভবতী হন শাহাজাদী। অনাগত সন্তান যেন ছেলে হয়, সেজন্য স্বামী ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রত্যাশার চাপ ছিল। কন্যা হলে বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি ছিল। এমন অবস্থায় ১১ সেপ্টেম্বর রাতে সিজারিয়ানের মাধ্যমে ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দেন শাহাজাদী। সংবাদ শুনেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন সিরাজুল। পরের দিন গুলোতে তিনি আর হাসপাতাল যাননি, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও রাখেননি। কন্যা শিশুর জন্ম দেওয়ার নানামুখী চাপে দিশেহারা শাহাজাদী ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে একই হাসপাতালে জন্ম নেওয়া আরেক রোগীর ছেলে সন্তান চুরি করেন। নবজাতক চুরির সংবাদে তোলপাড় তৈরি হয়। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় ঔই দিন সন্ধ্যায় ছেলে নবজাতকটি উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় শাহাজাদীর মা নারগিস বেগমকে। এঘটনায় শাহাজাদী ও তার মা কে আসামি করে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ঔই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে নারগিস বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৬ দিন ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। শাহাজাদী এক কক্ষে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক এনামুল হক জানান,গত ১০ সেপ্টেম্বর শিশুর বাবা ও মামা রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর আগে আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ছেলে সন্তান জন্মানোর বিষয়টি তারা জানতে পারেন। পরের দিন সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যা সন্তান ভুমিষ্ট হয়। এরপর থেকে বাবা সিরাজুল ইসলাম আর হাসপাতালে আসেননি। তিনি বলেন” রবিবার ছাড়পত্রের দিনও শিশুর বাবা ও মামা হাসপাতালে আসেননি। দুসম্পর্কের এক ভাই শাহাজাদীর বিল পরিশোধ করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানা পুলিশের এস আই শাহীন কবির জানান, আসামি সুস্থ হয়ে যাওয়ায় আইন মেনে তাকে আদালতে উত্থাপন করা হয়। আদালত কি আদেশ দিয়েছে আমার জানা নেই। খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে কর্মরত প্রসিকসন বিভগের এস আই বোধন চন্দ্র বিশ্বাস ( জিআরও- সদর) জানান, আদালতে শাহাজাদীর পক্ষে কোন আইনজীবী দেখা যায়নি। কেউ জামিন আবেদনও করেননি। নিয়ম অনুযায়ী আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুটির বিষয়টি পৃথকভাবে কেউ আদালতকে উত্থাপন করা হয়নি। প্রথা অনুযায়ী মানবিক বিবেচনায় তাকে মায়ের সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২ দিকে খুলনা নগরীর রুপসা ড্যাপ ক্লিনিক থেকে ৪ দিনের এক ছেলে নবজাতকে চুরি করা হয়। ঘটনার পর পর বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে হাসপাতালে সিসি ফুটেজ যাচাই বাছাই করে ৬ ঘন্টা পর ছেলে নবজাতকে নগরীর ইস্পাহানি গলির ভেতর থেকে নারগিস বেগমসহ নবজাতকে গলির ভেতর রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে ছেলে সন্তানকে উপযুক্ত তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।











